আরও দেখুন
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সবচেয়ে প্রতিভাবান অর্থনীতিবিদও দিতে পারবেন না—তবু বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করা যাক। আমেরিকা ও ইসরায়েল এক ধরনের মৌচাকে ঢিল দিয়েছে এবং এর পরিণতি পুরো বিশ্বকে ভোগ করতে হবে। আমি আগেই বলেছি যে এই সংঘাত আমেরিকার জন্য কিছুটা হলেও সুবিধাজনক; নাহলে এটি কখনও শুরু হত না। নিঃসন্দেহে এটি একটি অনুমান, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছেন যে শীঘ্রই এই সংঘাতের অবসান হবে। তবে বর্তমানে যুদ্ধ সমাপ্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, এবং ট্রেডাররা বুঝতে পারছে না যে ট্রাম্প কীভাবে তেহরানকে হরমুজ প্রণালী অবরোধ থেকে সরে আসতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করতে রাজি করাবেন।
আগে আমি উল্লেখ করেছিলাম যে ট্রাম্প সহজেই আমেরিকার সম্পূর্ণ জয় ও লক্ষ্য অর্জনের কথা বলে এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা দিতে পারেন—এমনকি তা সত্যি কি না সেটাও কোনো ব্যাপার না। যদি আমেরিকা নিজস্ব বা অন্যান্য মাধ্যমে ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করে, তবে সম্ভবত সময়ের সাথে সাথে ইরানও তেল ও গ্যাস স্থাপনায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করবে। তবে হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত সমস্যার সমাধান অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে।
বুধবার তেহরানের সামরিক সদর দফতরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি ঘোষণা দেন যে ইরান পাল্টা হামলার কৌশল থেকে শত্রুদের ওপর অবিরত আক্রমণের কৌশলের দিকে সরে যাচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ইরানের এই মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক বিন্দু তেলও বাইরে যাবে না, এবং যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের যেকোনো নৌযান বা ট্যাঙ্কারকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। জোলফাঘারি সমগ্র বিশ্বকে সতর্ক করেছেন যে তেলের দাম শীঘ্রই ব্যারেল প্রতি $200-এ পৌঁছাতে পারে, কারণ তেলের দাম আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর নির্ভর করে—যা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
খোলাখুলি বলা যায়, জোলফাঘারির বক্তব্য শুধুই ফাঁকা বুলি বলে মনে হচ্ছে না। বরং ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতিই অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু যতক্ষণ ইরানের সবগুলো সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হবেনা ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করা যাবে না—সব মিলিয়ে সব সামরিক যন্ত্রপাতি, ড্রোন, ডিপো, এয়ার ডিফেন্স ইত্যাদি ধ্বংস করতে কত সময় লাগবে তা অনুমান করা সম্ভব নয়। সম্ভাব্যভাবে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, এবং এমন অবস্থায় তেল ও গ্যাসের দাম সম্ভবত বর্তমান লেভেল থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না।
EUR/USD পেয়ারের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমি এই উপসংহারে এসেছি যে ইনস্ট্রুমেন্টটি এখনও একটি ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড সেগমেন্ট গঠন করে চলেছে, তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল মৌলিক প্রেক্ষাপটের কারণে এটি শীঘ্রই সম্পন্ন হতে পারে। ট্রেডাররা এখন শুধুই তেল ও গ্যাসের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে আগ্রহী। বর্তমানে আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছি না যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সম্পন্ন হয়েছে, সেইসাথে খুব তাড়াতাড়ি ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ হবে—এমন ধারণা করাও কঠিন। ফলে ওয়েভ প্যাটার্ন শীঘ্রই সমন্বয় করতে হতে পারে।
GBP/USD ইনস্ট্রুমেন্টের ওয়েভ স্ট্রাকচার যথেষ্ট স্পষ্ট। গ্লোবাল ওয়েভ 5 বর্তমান প্রদর্শিত আকারের চেয়ে অনেক দীর্ঘতর রূপ নিতে পারে। আমি মনে করি কারেকটিভ ওয়েভ সেটটির গঠন শীঘ্রই সম্পন্ন হবে (অথবা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকতে পারে), যার পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে। তাই বর্তমানে আমি 1.39 লেভেলের উপরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন করে ক্রয়ের সুযোগ সন্ধান করার পরামর্শ দিতে পারি। আমার মতে, ট্রাম্পের শাসনামলে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর $1.45-$1.50 পর্যন্ত ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, এবং ঊর্ধ্বমুখী ট্রেন্ড সেগমেন্ট পূর্ণাঙ্গ বলে মনে হচ্ছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময়কাল ও তীব্রতা এখন ইনস্ট্রুমেন্টটির মূল্যের মুভমেন্টের উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে।