আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বাইরে বেরোতে সক্ষম হয়েছিল, যা উপরের চিত্রে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তবে ভূ-রাজনৈতিক সংবাদের প্রভাবে এই পেয়ারের মূল্য অবিলম্বে সেই চ্যানেলে ফিরে যায়, যদিও এই বিষয়টি ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূল বিষয়টি হলো এই পেয়ারের মূল্য এই চ্যানেলের উপরের লাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য দৃঢ় কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। যেমনটি আমরা আগেও উল্লেখ করেছি, এখন থেকে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মার্কিন ডলারকে মাঝে মাঝে সহায়তা করতে পারে। তাই মার্কিন ডলারের মূল্যের টেকসই কোনো প্রবণতার আশা করা উচিত হবে না। যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হয়, তাহলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু আশা করা যায় ওয়াশিংটন ও তেহরান অবশেষে কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে।
শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ছিল না, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ISM ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স প্রকাশিত হয়েছিল। সূচকটি এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে দুর্বল ফলাফ্ল প্রদর্শন করেছে, কিন্তু দিনের শেষভাগে মার্কিন ডলারের দরপতনের বদলে দর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বলা যায় ট্রেডাররা আবারও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমিকে উপেক্ষা করেছে।
শুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় সেশন চলাকালীন সময়ে এই পেয়ারের মূল্য দুইবার 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, যা লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছিল। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরেকবার কূটনৈতিক সমাধানে আসার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার সংবাদ প্রকাশ পাওয়ার পর অবিলম্বে সেই লং পজিশনগুলো ক্লোজ করা উচিৎ ছিল। মার্কেটে সেশন শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, তবে সম্ভবত সেটি খুব একটা কার্যকর ছিল না।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই, তাই আমরা 2025 সালের বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা 2026 সালেও পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3476-1.3489 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার ওপরে কনসলিডেট করে, তবে নতুন লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3695 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3476-1.3489, 1.3587-1.3598, 1.3695, 1.3741-1.3751।আজ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না কোনো ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, তাই সারাদিন জুড়ে ট্রেডাররা টেকনিক্যাল মুভমেন্ট এবং ভূ-রাজনৈতিক সংবাদের উপর নির্ভর করতে পারেন।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।