আরও দেখুন
সোমবার GBP/USD পেয়ারের মূল্য প্রথমে কমে যায়, পরে বাড়ে এবং এরপর আবার কমে যায়। দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দিন ধরে এই পেয়ারের মূল্যের আবারও ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে—মার্কেটের ট্রেডাররা শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, যা ক্রমাগত পরিবর্তন হচ্ছে এবং প্রায়শই পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের আলোচনা থেকে ফের কোনো অগ্রগতি হয়নি, তবে অন্তত দেশ দুটি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার বদলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির বিষয়টি ততটা যৌক্তিক কোনো কারণে সমর্থিত নয়। মার্কেটের ট্রেডাররা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষাই করে যাচ্ছে। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় আছে, তবে এটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল, কারণ ট্রেডাররা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে আমরা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে মার্কেটে "সুইং মুভমেন্ট" দেখতে পাচ্ছি। মঙ্গলবারেও পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা কম। আজকের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে ট্রেডাররা এই প্রতিবেদনটিও উপেক্ষা করতে পারে, যেমনটি শুক্রবার প্রকাশিত শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
সোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি বাই ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়, যা নতুন ট্রেডারদের সামান্য মুনাফা করার সুযোগ দেয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, কিন্তু সারাদিন জুড়ে অস্থিরতার মাত্রা আবারও বেশ দুর্বল ছিল, ফলে এই পেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী উত্থান দেখা যায়নি। সন্ধ্যায় ম্যানুয়ালি লং পজিশনটি ক্লোজ করলে প্রায় 35-40 পিপস মুনাফা করা যেত।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও গত তিন সপ্তাহ ধরে সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে। দৈনিক ও সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে পরিলক্ষিত প্রবণতা অনুযায়ী ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
মঙ্গলবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা ভাবতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-1.3598 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3695 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আজও এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা দুর্ভাগ্যবশত মার্কেটে উপেক্ষিত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।