আরও দেখুন
বুধবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের ব্যাপক দরপতন ঘটেছে। এটি বলা যাবে না যে এমন দরপতন প্রত্যাশিত ছিল, তবে মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার মৌলিক ভিত্তি ছিল। প্রশ্ন হলো, মার্কিন ডলারের মূল্য কি এইভাবে বাড়তে থাকবে কি না। গত রাতে ফেডারেল রিজার্ভ মূলত জানিয়েছে যে তারা বছরের শেষে কমপক্ষে একবার সুদের হার বাড়াতে চায়। ফেডের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির সদস্যদের অবস্থান তিন মাস আগের তুলনায় অনেক বেশি হকিশ বা কঠোর হয়েছে। তাই ফেড সুদের হার বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে—এতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে? সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ট্রেডাররা ঠিক এমন প্রত্যাশাই করছিল। বর্তমানে এ ব্যাপারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রয়োজন হবে কি না—এটি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালী খোলার প্রভাব এবং জ্বালানি তেলের দরপতনের প্রতি মুদ্রাস্ফীতির প্রতিক্রিয়ার উপর। তেলের মূল্য ইতোমধ্যেই ব্যারেল প্রতি $80-এর নিচে নেমে গেছে। মনে রাখবেন, ইরান-যুদ্ধের আগে ব্রেন্ট গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $70 ছিল। অতএব আমরা মনে করি গতরাতের ঘটনা অস্বাভাবিক ছিলনা। ফেড মূল সুদের হার বাড়ায়নি; কেবল সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ফেডের বৈঠকের পর দুইটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। প্রথমে এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1594 এরিয়া ব্রেক করে, এরপর 1.1527-1.1531 এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়। ফলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার জন্য দুইটি সুযোগ পেয়েছে। যাই হোক, শর্ট পজিশনটি থেকে বেশ ভালো মুনাফা হয়েছে—কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই পেয়ারের 120 পিপস দরপতন হয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুনরায় এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, কিন্তু সেটি কেবল ফেড থেকে প্রাপ্ত শক্তিশালী সহায়তার কারণে ঘটেছে। মার্কিন ডলার প্রতিদিন এমন সহায়তা পাবে না। যদি শুক্রবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়, তাহলে মার্কেটে মার্কিন ডলার ক্রয়ের কারণ কমে যাবে। এছাড়া শুধুমাত্র ফেডই একমাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয় যারা সুদের হার বৃদ্ধির কথা ভাবছে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1465-1.1474 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া অতিক্রম করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584-1.1594 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। বৃহস্পতিবার ইইউ বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকের ফলাফল ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা ইউরোর সাথে পারস্পারিকভাবে সম্পর্কযুক্ত। অতএব, আমরা প্রত্যাশা করতে পারি যে আজকের দিনটি যথেষ্ট অস্থির হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।