আরও দেখুন
মঙ্গলবার অপ্রত্যাশিতভাবে পুনরায় EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যে দরপতন খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়, তবে মার্কিন ডলারের ক্রমাগত দর বৃদ্ধি এবং ইউরোর দরপতনের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, সোমবার বা মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি এবং কোনো ইভেন্টও ছিল না। ঠিক কী কারণে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো মার্কিন ডলারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে? ট্রেডাররা কি কেবল ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে? এর বাইরে অন্য কোনো জোরালো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। হ্যাঁ, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতাদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানের প্রকৃত সম্ভাবনা কতটুকু? আর যদি যুদ্ধ শেষও হয়, তবে তা নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে মার্কিন ডলারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, এই সপ্তাহে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে—কিন্তু সেই বৈঠক থেকে ট্রেডাররা ঠিক কী আশা করছে এবং কেনই-বা তা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করবে? আমাদের মতে, মার্কেটের বর্তমান এই মুভমেন্ট মূলত অযৌক্তিক এবং নিজস্ব মোমেন্টামের ওপর নির্ভর করছে। তা সত্ত্বেও, ট্রেন্ডলাইন নির্দেশ করছে যে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা এখনও অটুট রয়েছে; তাই টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার চেয়ে এই পেয়ারের দরপতনের সম্ভাবনাই বেশি।
মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি সেল সিগন্যাল সঠিত হয়েছিল। এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1471 এরিয়া থেকে দুবার বাউন্স করেছিল, যা নতুন ট্রেডারদের শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিয়েছিল। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকায়, আজ ইউরোর আরও দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা এখন পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোর ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায়, হঠাৎ করেই ইউরোর ব্যাপক দরপতন ঘটবে —এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই; তবে ট্রেডাররা এখন মূলত ফেডারেল রিজার্ভের গৃহীত নীতিমালা ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা এখন মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে অনুকূল হয়ে উঠেছে। তবে শুধুমাত্র এই বিষয়টির উপর ভিত্তি করে মার্কিন ডলার সবসময় সহায়তা পাবে না।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1366–1.1377-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1461–1.1474 এরিয়ার উপর স্থিতিশীলও হলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1527–1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267–1.1275, 1.1366–1.1377, 1.1461–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1584–1.1594, 1.1655–1.1665, 1.1745–1.1754। বুধবার জার্মানি, ইউরোজোন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টরের সেপ্টেম্বর মাসের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সংক্রান্ত সূচক প্রকাশিত হবে। এই সপ্তাহে বড় কোনো ইভেন্ট বা প্রতিবেদন নির্ধারিত না থাকায়, এই পিএমআই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।